Home » Bengali News » ‘শিক্ষা আমাদিগকে পরাভূত করিয়া ফেলিয়াছে’

‘শিক্ষা আমাদিগকে পরাভূত করিয়া ফেলিয়াছে’

হাইলাইটস

  • আজ চারপাশে যে সংকীর্ণতার কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে তার মূলে ক্রমবর্ধমান অশিক্ষা, এমন ভাবার কারণ আছে।
  • বর্তমান শিক্ষাপ্রণালীটাই যে আমাদের ব্যর্থতার কারণ, অভ্যাসগত অন্ধ মমতার মোহে সেটা আমরা কিছুতেই মনে ভাবিতে পারি না।
  • ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নতন বিশ্ববিদ্যালয় গড়িবার বেলাতেও প্রণালী বদল করিবার কথা মনেই আসে না।

চিন্ময় গুহ

স্বাধীনতার পর চুয়াত্তর বছর হল, এই বিরাট দেশের অগ্রগতি (‘বিকাশ’ শব্দটা ব্যবহার করতে ভয় হয়) যে অত্যন্ত এলোমেলো ও খাপছাড়া ভাবে হয়েছে, তাতে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার ভাগ অনেক বেশি সে কথা নেহাত দায়িত্বহীন স্বার্থপর ছাড়া সকলেই স্বীকার করবেন। আজ চারপাশে যে সংকীর্ণতার কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে তার মূলে ক্রমবর্ধমান অশিক্ষা, এমন ভাবার কারণ আছে। সবেমাত্র রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবস গেল। আজ তাঁর কথা মনে পড়ছে সবচেয়ে বেশি করে। বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে ‘শান্তিনিকেতন’ পত্রিকায় (জ্যৈষ্ঠ ১৩২৬), ‘অসন্তোষের কারণ’ নিবন্ধে তিনি লিখেছিলেন: ‘বর্তমান শিক্ষাপ্রণালীটাই যে আমাদের ব্যর্থতার কারণ, অভ্যাসগত অন্ধ মমতার মোহে সেটা আমরা কিছুতেই মনে ভাবিতে পারি না। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নূতন বিশ্ববিদ্যালয় গড়িবার বেলাতেও প্রণালী বদল করিবার কথা মনেই আসে না; তাই, নূতনের ঢালাই করিতেছি সেই পুরাতনের ছাঁচে।’

আমাদের হতভাগ্য দেশে ‘কারারুদ্ধ’ পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষাপদ্ধতির (যা শ্বাসরোধকারী গতিতে বেড়েই চলেছে) গোড়ায় গলদ কোথায়, তাতে যে ‘সত্য ও প্রাণের জিনিস’ নেই, স্বাধীন পাঠের অবকাশ নেই, তা তিনি নিজের শৈশবে চরম লাঞ্ছনায় প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ‘জীবনস্মৃতি’-তে সেই দুঃখের প্রতিলিপি আঁকা আছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের আধুনিকতার ইতিহাসে সবচেয়ে অসাধারণ প্রতিবাদ-প্রকল্প যে বিশ্বভারতী, তা আজও আমরা বুঝি নি। এই না-বোঝার মধ্যে ভারতের শিক্ষার সার্বিক ব্যর্থতা লুকিয়ে রয়েছে। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা-বিষয়ক রচনাগুলি পড়লে যে আমরা উপকৃত হতাম তাতে সন্দেহ নেই। তিনি লিখেছিলেন, ‘ভয়ে ভয়ে যাই, ভয়ে ভয়ে চাই,/ভয়ে ভয়ে শুধু পুঁথি আওড়াই। হায়, শিক্ষা আমাদিগকে পরাভূত করিয়া ফেলিয়াছে।’ এ দেশে শিক্ষার বিধাতারা কেউ পড়েছেন কি? স্বাধীনতার পরের বছর গঠিত রাধাকৃষ্ণণ কমিশন- যার সদস্য ছিলেন নির্মলকুমার সিদ্ধান্ত, মেঘনাদ সাহা, লক্ষ্মণস্বামী মুদালিয়ার, জাকির হোসেন প্রমুখ, কিন্তু বিশেষ ভাবে লক্ষণীয় যে গান্ধীবাদী (রামচন্দ্র গুহ-র ভাষায়, প্রথম পরিবেশবাদী, ‘গ্রিন গান্ধিয়ান’) জোসেফ কুমারাপ্পা ছিলেন না- ১৯৪৯ সালের ২৫ অগাস্ট যে প্রতিবেদন পেশ করে তাতে শিক্ষার লক্ষ্য হিসেবে নতুন ভারত গড়া, গণতান্ত্রিক চেতনাবোধ জাগ্রত করা, ভারতীয় সংস্কৃতির সংরক্ষণ, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও মূল্যবোধ নির্মাণ, জ্ঞানের প্রসারণ ও প্রজ্ঞার অনুসন্ধান, বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার, নারীশিক্ষা ইত্যাদির কথা বলা হয়।

শিক্ষায় নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়: বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিচালনার দায়িত্ব আচার্য, উপাচার্য, সেনেট, সিন্ডিকেট ইত্যাদির ঊর্ধ্বে দেওয়া হয় রাজ্য সরকারগুলিকে। সেই পথে কালনাগিনী প্রবেশ করল। সংকীর্ণ রাজনীতিই যে ধীরে ধীরে শিক্ষাঙ্গনকে ক্রমশ কলুষিত করবে স্বাধীনতাপ্রাপ্তির ইউফোরিয়ায় নেহরু এবং তাঁর সহযোগীরা তা অনুমান করতে পারেন নি। পাঠক্রমে কৃষিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও তা অলীক রূপকথা থেকে গেছে। শিক্ষার বিভাজনের সেই শুরু। বলা হয়, শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে সর্বভারতীয় ভাষা হবে হিন্দি, আঞ্চলিক ভাষাগুলিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষকের মূল্য ও পদোন্নতির কথাও বলা হয়। বলা হয়, ছাত্রকল্যাণের কথা। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষার নিবিড় সম্পর্কের কথা বলা হয়। ১৯৫২-৫৩ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা কমিশন বা মুদালিয়ার কমিশন এই সুপারিশগুলিকে নতুন করে যাচাই করে স্ট্রিম নির্বাচনের পরামর্শ দেয়। কমিশনের মতে, ‘সুষম-ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ’ সৃষ্টি করা শিক্ষার লক্ষ্য। ১৯৬৪ সালে ডি এস কোঠারির নেতৃত্বে যে কমিশন গঠিত হয়, এবং দু’বছর পর রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়, তার সদস্যদের মধ্যে ইংল্যান্ডের এইচ এল এলভিন, আমেরিকার আর রেভেল, সোভিয়েত ইউনিয়নের শুমভস্কি প্রমুখ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ ছাড়াও ছিলেন ত্রিগুণা সেন, জে পি নায়কের মতো বিদ্বানরা।

তাঁরা কয়েকটি বাস্তব সমস্যা লক্ষ করেন, যেমন বেকারত্ব, জাতীয় সংহতি, মূল্যবোধ ইত্যাদি। মনে করিয়ে দেওয়া হয়, ক্লাসঘরেই তো দেশের ভবিষ্যতের কাঠামো তৈরি হবে। শিক্ষায় ধর্মনিরপেক্ষতার মূল্যবোধের কথাও বলা হয়। কথাগুলো ঠিক। তবে কেন হ য ব র ল-র কাক্কেশ্বর কুচকুচের মতো সাত দু’গুণে চোদ্দর চার, হাতে রইল পেনসিল? তবে কেন বিদ্যায়তনগুলিতে এত বিভ্রান্তি ও হতাশা? যেটা অনুধাবন করা হয়নি, সেটা হল বত্রিশ লক্ষ বর্গকিলোমিটারের বহুভাষিক, বহুবিভাজিত, বহু অর্থনৈতিক শ্রেণির (উচ্চবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত, মধ্য-মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, শূন্যবিত্ত), জটিল জাতপাতের দেশে কাজটি সুকঠিন। বারবার শিক্ষার কাঠামো বদলে ম্যাট্রিক, স্কুল ফাইনাল, এগারো বছরের উচ্চমাধ্যমিক, পরে মাধ্যমিক ও বারো ক্লাসের উচ্চমাধ্যমিক, দু’টি এবং পরে তিনটি ভাগে বিভক্ত স্নাতকতা, পরে সেমিস্টার পরীক্ষা শুধু থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়। বার্ষিক পরীক্ষা পদ্ধতিতে ভারতে যে সব উজ্জ্বল রত্ন তৈরি হয়েছিল, পরে ষাণ্মাসিক পদ্ধতিতে কি তার চেয়ে বেশি হল?

বিদেশে আঙুলে গোনা ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে যে সেমিস্টার সিস্টেম সম্ভব, এ দেশে কোটি কোটি ছাত্রের ওপর তা চাপিয়ে দেওয়া হলে তা কি অযৌক্তিকতার পরাকাষ্ঠা নয়? এতে ‘লেখাপড়ার কালোবাজার’ (ভবতোষ দত্তের শব্দবন্ধ) স্ফীত হওয়া ছাড়া বিদ্যার বিকাশে কারও লাভ হবে না। জাতীয় চরিত্র নিয়ে যে কোনও সাধারণীকরণই ভ্রমাত্মক। তপন রায়চৌধুরীর ভাষায়, ‘দেশ স্বাধীন হবার পর উচ্চশিক্ষায় প্রচুর অর্থবিনিয়োগ হয়, মধ্যবিত্ত শ্রেণির উচ্চাশা মেটাতে। বিনিয়োগের কর্তা নেতাবাবুরা। তাঁদের শিক্ষাদীক্ষা খুব প্রবল নয়। আর স্বাধীন ভারতে হাত-কচলানো সংস্কৃতি স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছে। এই ব্যাপারে যার যত পটুত্ব তার ততই পোয়াবারো। ওই পথে শনি প্রবেশ করলেন। আর সঙ্গে স্বজন তথা স্যাঙাত-পোষণ। এখন তো সাড়ে তিনশো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের বিদ্যা সত্যিই লয়ের পথে চলেছে।’ (সাক্ষাৎকার, ‘আয়না ভাঙতে ভাঙতে’) দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার কারণে বলতে লজ্জা পাই না যে, শিক্ষাব্যবস্থার মুখ থুবড়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হল শিক্ষকের অবমূল্যায়ন। সুকুমার সেন, সুনীতি চট্টোপাধ্যায়, অম্লান দত্ত’রা আর সমাজে গুরুত্বপূর্ণ নন। এখনও অবশ্যই কেরিয়ারের কথা না ভেবে অনেক শিক্ষক রক্তপাত করে পড়ান, কিন্তু এঁদের সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে। এক মুহূর্ত না ভেবে চিন্তাহীন ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ালে যে পরিকাঠামো আর যোগ্যতার অভাবে হিতে বিপরীত হতে পারে এ কথা নেতা-মন্ত্রীদের মনে থাকে না।

এ দিকে জোর করে সারা দেশব্যাপী একই পাঠক্রম চাপিয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার মুক্তচিন্তার প্রবাহকে রুদ্ধ করার জন্য শবাধারে শেষ পেরেকটি মারতে উদ্যত। আমরা জেনেও জানি না যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিতই আসল। সেখানে যে আলো জ্বলে মনে, যার কিছু নমুনা ছয় ও সাতের দশকের শুরুতে বাংলা স্কুলে পেয়েছি আমি, তা জীবনকে বদলে দিতে পারে। নকশাল আন্দোলন পরবর্তী পর্বে, বাম আমলে, অন্তত কলকাতার আলোকস্তম্ভপ্রতিম বাংলা স্কুলগুলি এলিটিস্ট ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের কাছে পরাভূত হয়। শিকড় উপড়ে ফেলা গোলকায়নের সামনে ছাত্রছাত্রীর সত্তার সংকট শিক্ষাকে আরও সংকটাপন্ন করেছে। সাম্প্রদায়িকতার মতো গোখরো সাপের সমাজকে ছোবল দেওয়ার পক্ষে এই তো উপযুক্ত সময়। প্রায়শ্চিত্তের মহাযজ্ঞ কী ভাবে হবে জানি না। হয়তো দ্রুত কমে আসা প্রকৃত শিক্ষাবিদরা শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত হলে সাম্প্রদায়িকতা কমবে, উদারতা বাড়বে। শিক্ষার আসল মন্ত্রগুপ্তি হল শ্রদ্ধা। এই শ্রদ্ধা তিনি অর্জন করবেন কী ভাবে?

কমরেড, চেতনায় কি জং ধরে পলিত কেশে!
প্রথমত নিজে শিক্ষকতার উৎকর্ষ বজায় রেখে, এবং ছাত্রকে শ্রদ্ধা করতে শিখে। শিক্ষকও ছাত্রছাত্রীর কাছে কম শেখে না। দুঃখের বিষয়, রবীন্দ্রনাথ-কথিত ‘মাস্টারের কটু গালি’ (‘শিক্ষার হেরফের’) এখনও পুরো থামেনি। অধ্যাপকদের সভায় ছাত্রছাত্রীদের ভুল নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপ প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এর আশি ভাগ দায় যে ওই শিক্ষকদের এ কথা তাঁরা জানেন না। স্বয়ং গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক যদি বলতে পারেন তিনি ‘ছাত্রের ভৃত্য’, আমরা কেন অহমিকামুক্ত হয়ে মাটিতে নেমে আসতে পারব না আমাদের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের মতো? গত ছয় দশকে সারা ভারতে শিক্ষার কালোবাজার ক্রমশ দৈত্যের মতো জাঁকিয়ে বসেছে, ঘুণ ছড়িয়ে পড়েছে রক্তকর্কটের মতো। তৈরি হয়েছে এক অচ্ছেদ্য চক্র, যাকে ভাঙতে হলে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রয়োজন। বিদ্যাসাগর নিশ্চয় কল্পনাও করতে পারতেন না যে, তাঁর রচিত শিক্ষার বাস্তববাদী বুনিয়াদ এক দিন এ ভাবে এক কানা গলিতে এসে পৌঁছবে। আশুতোষ মুখোপাধ্যায় চেয়েছিলেন শিক্ষার ‘অটোনমি’।

মেকলে-র ভাবনাকে সাধারণ্যে মিশিয়ে ভারতের আপন চিন্তাক্ষেত্র কর্ষণ করতে চেয়েছিলেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের একটি জরুরি নিবন্ধ আছে: ‘দ্য ফ্রুটস অফ মেকলে’জ পয়জন ট্রি’। রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীজির শিক্ষাভাবনার বিতর্ক আজও খুলে দিতে পারে নতুন এক জগৎ। গৌতম ভদ্র মনে করেন, গান্ধীজির শিক্ষাদর্শন ছিল সবচেয়ে বৈপ্লবিক। তিনি নিজে অসাধারণ ইংরেজি জানতেন, কষ্ট করে লাতিন শিখেছিলেন। কিন্তু তিনি মনে প্রাণে অর্ধ-ছিন্ন (ট্রাঙ্কেটেড) পশ্চিমি আধুনিকতার বিরোধী ছিলেন, বলেছিলেন (১৯৩৭) ইংরেজ চলে যাওয়ার সময় ইংরেজি ভাষার নিকৃষ্ট মূল্যবোধগুলো রেখে যাবে। কিন্তু সেই সঙ্গে ইংরেজি ও আঞ্চলিক ভাষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে পাশাপাশি রাখতে চেয়েছিলেন, কারণ গান্ধীজি জানতেন যে ভারত বহুভাষিক।

তিনিও রবীন্দ্রনাথের মতো মানুষ ও প্রকৃতিকে মেলাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর পদ্ধতি ছিল ভিন্ন, তার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন শ্রমকে। শ্রমচিন্তাকে শিক্ষার কেন্দ্রে রেখে অনেক জটিল সমস্যার, যেমন দলিতদের সামনে সীমাহীন প্রতিবন্ধকতা, সমাধান করতে চেয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন শিক্ষাকে এ ভাবে গণ-আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে কাঠামো বদলালে হিন্দুত্ববাদকে ঠেকানো যাবে। নিয়মের পক্ষে থাকলেও তিনি পরীক্ষা-ব্যবস্থা মানতে রাজি ছিলেন না। স্বাধীন ভারতে অবশ্য কোনও সরকারই গান্ধীজির শিক্ষাচিন্তায় গণ-আন্দোলনের এই সদর্থক ভূমিকাকে গুরুত্ব দেয় নি। সত্যমূল্যের জন্য আর কোন মহাত্মার গায়ে এত কাদা লেগেছে? অসমান ভারতীয় সমাজে সংরক্ষণের ভীষণ প্রয়োজন ছিল, কিন্তু এ নিয়ে এত বছরেও কোনও গভীর সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ হয়নি কেন, সেই প্রশ্ন এবার উঠবে। এত বড় দেশে চোখ বন্ধ করে একটি অভ্যাস চালিয়ে যাওয়ার গাণিতিক কারণ জানব না আমরা? প্রায় সম্পূর্ণ সৃজনশীলতাহীন শ্বাসরোধকারী পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা-কারখানায় যাঁরা সংগ্রাম করে অসাধারণ হয়ে উঠতে পেরেছেন, গৌতম ভদ্রের ভাষায়, তাঁদের অধিকাংশই স্বশিক্ষিত।

৭৫তম স্বাধীনতা দিবস তো বটে, কিন্তু আমরা কতটা স্বাধীন!
হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভারতীয় ছাত্রী জানিয়েছে, ভারতের আইআইটি-গুলিতে ভর্তি হওয়া সেখানে ভর্তি হওয়ার চেয়ে শক্ত! তবু কনফুশিয়াস-এর পরামর্শ অনুযায়ী, অন্ধকারকে অভিশাপ না দিয়ে যখন কোনও শিক্ষক ছাত্রমনে প্রদীপ জ্বালান, তৈরি হয় সংযোগের সেতু, আর তার দেখার দৃষ্টি যায় বদলে, সে অন্তর থেকে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, তখন একটি সুখোষ্ণ স্বপ্ন সার্থক হয়। শিক্ষক হিসেবে আমি বিশ্বাস করি যে ক্লাসঘরটা তো হয়ে উঠতেই পারে একটা জাহাজ, যা দেয়াল ভেঙে অকূল দরিয়ায় পাড়ি দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে। শুধু একটা বলিষ্ঠ উদ্যোগের অপেক্ষা।

(এই নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত একান্ত ভাবে লেখকের ব্যক্তিগত। এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক এর জন্য দায়বদ্ধ নয়।)


Source link

x

Check Also

সফল হওয়া সত্ত্বেও ক্রিকেটের মেয়েরা উপেক্ষিত

হাইলাইটস কয়েক মাস আগেই ব্রিসবেন-এ ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর আহমেদাবাদে বাজি পুড়ল। ঋষভ পন্থের উইনিং ...